
Daily World Desk: ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতকরণ কিংবা অধিকৃত পশ্চিম তীর দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে তিনি গাজায় ইসরায়েলের চলমান ‘গণহত্যা’ অবিলম্বে বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ফিলিস্তিন টিভিতে প্রচারিত এক ভাষণে আব্বাস বলেন, ‘গাজায় এখন যা ঘটছে—হত্যা, অনাহার, ধ্বংস এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি—তা মানবতার জন্য কলঙ্ক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তবে এ গণহত্যার দায় তাদেরও নিতে হবে।’
তিনি বলেন, গাজার মানুষ ‘এই সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং ইসরায়েলের অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা এই দুর্দশাকে আরও গভীর করেছে।
আব্বাস অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশ এবং ইসরায়েলের হাতে আটকে থাকা ফিলিস্তিনি কর রাজস্ব দ্রুত ছাড়ের দাবি জানান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে গাজায় আটকে থাকা লাখ লাখ টন সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘ইসরায়েলের অবরোধ ও সাহায্য অবরুদ্ধ করে রাখার কারণে ইতোমধ্যে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮০ জনই শিশু—যা গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব।’
আব্বাস বলেন, ‘গাজায় পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ সম্মিলিত মৃত্যুর রূপ নিয়েছে।’ তিনি গাজা সরকার মিডিয়া অফিসের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করে জানান, ১৪০ দিনেরও বেশি সময় সীমান্ত বন্ধ থাকায় এই বিপর্যয় আরও তীব্র হয়েছে।
তিনি জানান, ২ মার্চ থেকে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল, ফলে সীমান্ত দিয়ে এখনো সহায়তা প্রবেশ করছে না।
‘আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি—ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করুন। না খেয়ে শিশুদের মৃত্যু দেখেও কীভাবে চুপ থাকা সম্ভব বিশ্বের?’
তিনি জানান, গাজায় পুনর্গঠনের কাজ, বাস্তুচ্যুতদের ঘরে ফেরানো ও পূর্ণ প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তার সরকারকে সুযোগ দিতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় আরব ও আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
এছাড়া তিনি পশ্চিম তীর সংযুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের পদক্ষেপেরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।’
সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে একটি প্রতীকী প্রস্তাব উত্থাপন করে পশ্চিম তীর, বিশেষ করে জর্ডান উপত্যকা সংযুক্তির আহ্বান জানানো হয়। ডানপন্থি রিলিজিয়াস সিয়োনিজম, ওটজমা ইয়াহুদিত ও লিকুদ দলের সদস্যরা এই প্রস্তাব উত্থাপন করে। ৭১ জন এমপি প্রস্তাবের পক্ষে এবং ১৩ জন বিপক্ষে ভোট দেন।
যদিও এটি আইনি বৈধতা রাখে না, তবুও ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো এটিকে ‘ঐতিহাসিক ও প্রতীকী গুরুত্বসম্পন্ন’ বলে বর্ণনা করেছে।
Source : Daily World