
গল্প
এই তো সেদিন মাদক বিরোধী এক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী সভায় বেশ সাজসন্দে আনন্দের সহিত টিউটোরিয়াল সার্জাস বিদ্যালয়ে আমি গেলাম। বিকাল ৩ টার সময় সভা শুরু করলাম। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেওয়ানো হলো। সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর সভা শেষ করলাম বিকাল ৫ টার সময়। বাড়ির দিখে রওনা দেবো এমন সময় আকাশ কালো হয়ে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো। তাই বাড়িতে সে সময় আর আসতে পারলাম না সবাই বিদ্যালয়ের ২ য় ভবনে আড্ডা দিতেছে। কিন্তু আমার একটা স্বভাব বেশি লোকের মাঝে আমি থাকিনা।একাই থাকতে বেশ ভালো বাসী তাই নিচেই রয়ে গেলাম। আমি এ প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে বারান্দা গুলোর মধ্যে হাটতেছি। এক নোংরা বিশ্রি অন্ধকার রুম দেখতে পেলাম। আলোর কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদ্যালয়ের অনেক গুলো রুম। টিউটোরিয়াল সার্জাস বিদ্যালয় খুব উন্নত তো।তাই এ ময়লা রুমটার দিকে খেয়াল রাখে না।ফেলে রেখেছে।এদিকে সন্ধা হয়ে আসতেছে এমন সময় দেখতে পেলাম কে যেন একজন এ রুম হতে বাহির হলো। ভয় পেয়ে গেলাম মনে হয় ভূতের আবির্ভাব হলো না তো। এখানে তো মানুষ থাকতে পারে না। পরেক্ষণে দেখতে পেলাম এক বয়স্ক মহীলা বাহির হয়েছে। আমি তো অবাক। ভাবলাম এ এখানে কী করতেছে তার দিকে লক্ষ দিয়ে যা দেখলাম তার গায়ে ময়লা কাপড় পেটে মনে হয় কাপড় পেটে মনে হয় খাদ্য নেই তাই ভালো মতো চলতে পারছে না। আমার দিকে অসহায়ের দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে। আমি ফের হাটা বন্ধ করে তার কাছে এসে দাড়ালাম। আমার সাথে কোনো কথা বলছেনা শুধু দেখছে। আমি আর কথা চেপে রাখতে পারলাম না। বললাম মা আপনি এখানে কী করছেন। কোনো কথা বলছেনা শুধু মনে হয় অচেনা দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। তিনবার একটি কথাই বললাম। তার দু- চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু পড়তেছে। এবার বললো বাবা তোর নাম কী রে।আমি বললাম আব্দুর রহমান। আমি প্রথমত তার নাম জানতে চাইলাম।তিনি জানালেন আমার নাম ফাতেমা। তা মা আপনি এ ঘুচঘুচে অন্ধকার বিশ্রি রুমটাতে কী করছেন। বাবা আব্দুর রহমান তুমি তো দূরের লোক। তুমি আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না।আমি হলাম এ জমালো ঘরের অবহেলিত বাসিন্দার।আমার দুচোখ দিয়ে ব্যাথায় অশ্রু ঝরছে। আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললাম খাদ্য কোথা হতে পান মা।দিনের বেলা মানুষের কাছে ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে ভিক্ষা চাই। কেউবা দায় আবার কেউবা ধিক্কার দায় জীবনটা তো আমার অবহেলার।আমি জানালাম মা আপনার কোনো সন্তান নেই। সন্তান থেকে লাভ কী বাবা। এ পৃথিবী তো স্বার্থের। নিজের কলিজা ছিড়ে যে সন্তানকে পিতা- মাতা নিজে না খেয়ে কঠোর কষ্টে পড়াশোনা করে বড় বানিয়ে তুলে স্ত্রী পেলে সে তো পিতা মাতাকে অবহেলার পাত্র বানিয়ে রাখে।কুকুরের মত দূর দূর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দায়।আমার দু- চোখ দিয়ে ঝড়ের বেগে বিদ্যুৎ গতিতে জল পড়তে লাগলো। ফাতেমা আমাকে সান্তনা দিয়ে বলছে বাবা তোমার চোখে জল কেন।আমি জানালাম মা আপনার কথা শুনে। সত্যি মা আপনি আপনার জীবন কাহিনি একটু বিস্তারিত ভাবে জানালে আমাকে জানালে কৃতার্থ হবো। বাবা এ অধমের কাহিনী শুনবে। আমি বললাম জী।তাহলে শুনো।ফাতেমা তার জীবনের নির্মম পরিহাসের কাহিনী এখন এ অজ্ঞ পৃথিবী বাসীকে জানাবে।।বাবা আব্দুর রহমান আমি দু পুত্র সন্তানের মা।ফরহাদ ও ফয়সাল তাদের নাম। তাদের পিতা রাহাত বর্ণাট্য ব্যক্তি ছিলো। টাকা পয়সার তে অভাব নেই। নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবে সন্তানদের উচ্চ পড়াশোনা করালাম। রাহাত সাহেব আজ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু দায়িত্ব আমার মাথার উপর রেখে গেছে। সন্তান দু টাকে কিছু অর্থ অধিক দিয়ে বড় চাকরি নিয়ে দিলাম। আজ উচ্চ পর্যায়ে তাদের অবস্থান।কেমন করে আমার মতো অযোগ্য ফকিরানীকে তারা মনে করবে। আভিজাত্যের মোহে আজ তারা ভূলে গেছে নিজের মাকে। আজ তারা অর্থের মোহে অন্ধ। বিয়ে করেছে বর্ণাট্য ঘরের মেয়েকে।বিয়ের পড়ে যে কী হলো স্ত্রী আমাকে ভূলে গেলো। সর্বদা ধিক্কার দায় তারা।আমি বুঝতে পেরেছি তারা আমাকে আর দেখতে নাহি পাচ্ছে। খাদ্যে ও দায় না কেউ কথাও বলেনা।তারা স্বামী- স্ত্রী আনন্দে আত্নহারা।আমি ধিক্কার পাওয়ার পড়েও অবহেলিত হয়ে তাদের গেছে একটি কথা বলতে গেলাম। তারা দু- ভাই খাচ্ছে। আমাকে দেখে রাগান্বিত হলো।তাদের স্ত্রীরা জানালো এ মহীলাটা কত বিশ্রি। দু- চোখ দিয়ে অশ্রু পড়তেছে।ফরহাদ বললো মিথ্যা মায়াকান্না করো না।তোকে আর আমরা পুশতে পারবোনা। আমাদের বাড়ি হতে তুই চলে গেলে বাঁচি। এ বলে তারা ঘরের মধ্যে চলে গেলো।বাবা আব্দুর রহমান সেই বাড়ি হতে বেরে এসেছি তারা কোনোদিন আর আমার খোজ নিলো না যে আমি বেচে আছি কী না মরে গেছি। রাজপথে ভিখারির মতো চলেছি। টিউটোরিয়াল সার্জাস বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে কাকুতি মিনতি করে এ বিশ্রি রুমটাতে ঠাঁই পেয়েছি।কী করবো বাবা শুনলে তো অবহেলিত এক মায়ের নির্মম জীবন কাহিনি। বেদনায় মনে হয় এ জীবন আমার ফেটে যাচ্ছে। তবুও বললাম সত্যি মা আপনার জীবন কাহিনি নির্মম। এদিকে বৃষ্টি থেকে গেছে সকলে বাসা আসার জন্য প্রস্তুুত।আমি আর এ দুঃখীনি মাকে বেশি কিছু বলতে পারলাম না। শুধু বললাম মা আমি তোমার দায়িত্ব নিতে চাই।তিনি অশ্রু ঝড়া কণ্ঠে বললেন তুমি কেনো আমার দায়িত্ব নেবে বাবা। নিজের সন্তানে তো আপনা হলো না।আর তোমাকে তো আমি চিনি না জানি না।আমি অশ্রু ঝড়া কণ্ঠে বললাম না মা আমি সমাজকে দেখে দিতে চাই মায়েরা অবহেলিত না।খোদার পড়ে সন্তানের কাছে বাবা মা। তাদের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত বেহেশত। আমি সমাজে আর কোনো মাকে সন্তানের নির্মম অত্যাচারে অবহেলিত হয়ে এভাবে রাখতে চাই না বুঝিয়ে দিতে চাই বিশ্বের প্রতিটি সন্তানকে মায়েরা বোঝা না তারা প্রতিটি সন্তানের জন্য শান্তির মহা উৎস । তিনি কাঁদছে আমি চোখের জল মুছে দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। আমি বললাম জীবনে মায়ের আদর পাইনি ছোট বেলায় সেই ইয়া এতিম করে আমাকে মা রেখে পড়ো পারে চলে গেছে।যার মা নেই সে বুঝে মা হারানোর কষ্ট। চোখ থাকতে মানুষ চোখের মর্যাদা বুঝে না।মা হলো প্রতিটি সন্তানের নয়ন মণি। তেনাকে না করতে বারণ করলাম এবং সেই কঠিন আজাবের জায়গা হতে ধরে আসলাম নিজের বাড়িতে সম্মান দিলাম নিজের মায়ের আসনে।সেই মা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে সর্বদা হে আল্লাহ আমার ভালো রাখিস আমার আব্দুর রহমানকে।।।।