
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের কির্ত্তনীয়াপাড়ার ডুংকুড়ি পাড়ায় বিষ প্রয়োগে ৮৩ হাঁসের মৃত্যু হওয়ায় খামারি হতাশায়।
স্থানীয় খামারি মোঃ জাকারিয়া ইসলাম (৩২) দীর্ঘদিন ধরে দেশি হাঁস পালন করে আসলেও সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তার খামারির ৮৩টি হাঁস বিষ প্রয়োগে মারা গেছে। এতে তার প্রায় ৪১,৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে খামারি তিলে তিলে সৃষ্টি করা খামারের হাঁসের মৃত্যু হওয়ায় হতাশায় পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯শে আগস্ট ২০২৫ বিকেলে প্রতিবেশী মোঃ জিকরুল ইসলাম (৩৩) নিজের জমিতে কাউকে জানিয়ে আমন ধানের চারাতে দানাদার কীটনাশক ছিটিয়ে দেন। পরদিন ৩০ই আগস্ট ২০২৫ বিকেল ৩টার দিকে খামারের হাঁসগুলো ওই জমিতে গেলে ১০০টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ৮৩টি হাঁস মারা যায়। খামারী মো: জাকারিয়া ইসলামের হাঁসগুলো মারা যাওয়ার পরও জিকরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জমিতে আমি বিষ দিয়েছি, তোর হাঁস মারা গেলে আমার কিছু যায় আসে না, পারলে যা করার আছে কর ও হুমকি দেওয়া সহ অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে।
স্থানীয় খামারি মোঃ জাকারিয়া ইসলাম (৩২) জানায়, ৩০ই আগষ্ট ২০২৫ দুপর ১২ টার সময় মৃত্যু হাঁসগুলো নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাই। ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের লালবাবু নেম্বারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি দেখবে বলে জানায়। পরে পরিষদে অভিযোগ দিয়েছি। এ-সময় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও চৌকিদার উপস্থিত ছিলেন। জাকারিয়া জানান, তার হাঁস মারা গেলেও জমিতে ধানের ক্ষতি হয়নি।
স্থানীয় খামারি মোঃ জাকারিয়া ইসলাম (৩২) আরো আক্ষেপ করে বলেন, জিকরুল ইসলাম (৩৩) হাটে বাজার, গ্রামে গঞ্জে সহ সব জায়গায় বলতেছে কোথায় যায় যাক, পরিষদে যাক আমার কিছু করতে পারবে না।
প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ আজিজুল ইসলাম, মোছাঃ মনিরা বেগম ও মোঃ সবুজ ইসলাম সহ আরও অনেকে বলেন, জমিতে কাউকে না জানিয়ে আমন ধানের চারাতে দানাদার কীটনাশক ছিটিয়ে দেন।এতে জমিতে গেলে ১০০টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ৮৩টি হাঁস মারা যায়। প্রতিবেশীর এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। জাকারিয়া ইসলামের খামারের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম শেষ হয়ে গেলো।
স্থানীয়রা বলছেন, “প্রতিবেশীর এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আশা করি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ইউনিয়ন পরিষদ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”
খামারির এমন ক্ষতি ও হতাশা কেবল জাকারিয়ার নয়, এটি স্থানীয় কৃষি ও খামার শিল্পের জন্যও সতর্কবার্তা। ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না হলে খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
ঘটনার পর তিনি নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের পরেও দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ন্যায়বিচারের আশায় প্রতিনিয়ত দৌড়াদৌড়ি করলেও তা এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
Source : Daily world