1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
  2. dailyworld@gmail.com : dailyworld :
নীলফামারীতে গোড়গ্রাম ইউপি প্রশাসকের কার্যকর পদক্ষেপে স্বচ্ছতা, সেবা ও অবকাঠামোয় যুগান্তকারী পরিবর্তন - dailyworld
১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| শুক্রবার| রাত ৩:৫৪|
শিরোনামঃ
হোটেল সোনারগাঁওয়ে বসছে ‘দুবাই সিটি বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ হাজীগঞ্জে ২২ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল ভাড়ার টাকায় নিজের ফ্ল্যাটের মালিক—মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্নপূরণে নতুন সম্ভাবনা নীলফামারীর হাজীগঞ্জে খাসজমি দখল ও বিক্রির তদন্তে সত্যতা, নির্দেশের দুই মাসেও নেই মামলা সৃজন নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন আব্দুল মোমিন Kaberul Islam Liton Expresses Interest in Serving as Chief Advisor of Nilphamari Sadar Welfare Foundation to Help Build a Better Nilphamari নীলফামারী পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি উপলক্ষে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি উন্নত নীলফামারী সদর বিনির্মাণে নীলফামারী সদর এর ১৫টি ইউনিয়ন ও প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করবে Nilphamari Sadar Welfare Foundation উন্নত নীলফামারী সদর, সমৃদ্ধ আগামী গঠনে Nilphamari Sadar Welfare Foundation-এর অঙ্গীকার চলচ্চিত্রের স্বার্থে অভিজ্ঞতার আলো নিয়ে মাঠে জাতীয় বীর চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা

নীলফামারীতে গোড়গ্রাম ইউপি প্রশাসকের কার্যকর পদক্ষেপে স্বচ্ছতা, সেবা ও অবকাঠামোয় যুগান্তকারী পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৭৯ Time View

নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে পরিষদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। চেয়ার, টেবিল, সাধারণ আসবাবপত্র, কম্পিউটার, পানির ট্যাংকি, পানির লাইন, এমনকি সদস্যদের বসার মতো আসবাবও ছিল না। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৩, ১০১ ও ১০২ অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত স্বারক নম্বর ০৫.৪৭.৭৩০০.০১১.০৩.০৫৫.২৪-৫৫১ অনুযায়ী ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে নীলফামারী সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব হাতে নিয়ে অবকাঠামো ও সেবা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। প্রশাসক মোঃ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিষদের পানির ট্যাংকি, পানির লাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ, দুইটি ডেস্কটপ, একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কুশন চেয়ার, প্লাস্টিক চেয়ার, পাঁচটি কক্ষে ফ্লোর ম্যাট, প্রতিটি কক্ষে চেয়ার -টেবিল, প্রথম ও ১২টি ওয়াশরুম, চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং অফিস সহকারীর কক্ষসহ সকল রুম সুসজ্জিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় সম্পূর্ণ গ্রিল এবং নিচে ও উপরে কলাপসিবল গেটের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি উপরে ও নিচে সমস্ত জানালা ও দরজা নতুন করে তৈরী করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্রোকারিজ সামগ্রী ক্রয় করা হয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে সংগ্রহ করা সীমিত বাজেটের শতভাগ ব্যবহার করা হয়েছে। কখনো কখনো পরিষদের প্রশাসক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ২–৩ জন ইউপি সদস্য ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। যদিও এসব উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পরিষদের মহিলা সদস্যগণ এবং দুজন ইউপি পুরুষ সদস্য বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি ছিল, পরিষদের বাজেট এবং ট্যাক্স টাকা সরাসরি বণ্টন করা হোক।

নাগরিক সেবার সচ্ছতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসক জনসেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরিষদের সকল সেবা তালিকা ও মূল্য প্রকাশ করেছেন, ফলে সাধারণ জনগণ আর্থিক ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে। নাগরিক সেবার মধ্যে জন্ম নিবন্ধনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিদিনের জনসেবা দ্রুত এবং অতি সুষ্ঠুভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য সকল সেবা জনগণ কোনরূপ অনিয়ম ছাড়াই পাচ্ছে।

পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর হাজীগঞ্জ বাজারের সরকারি খাস জমি দখল, ভবানীগঞ্জ বাজারের সরকারি খাস জমি দখল, বালি কাটা, মাটিকাটা, টপসেল কাটা, ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক চলাচলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভবানীগঞ্জ বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার জন্য অবস্থান নিশ্চিতকরণ করেছেন। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলো নীলফামারী সদর উপজেলা পিআইও বাবুল চন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কতিপয় ইউপি সদস্যরা বাস্তবায়ন করেছেন। এমনকি প্রশাসকের সুপারিশকৃত, জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও তারা বাস্তবায়ন করেননি। প্রশাসককে প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বলা হয়নি এবং পরিদর্শন করতে চাইলে জানানো হয়, পরিদর্শন করা আপনার কাজ নয়।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে লটারি বাদে প্রতিটি ইউপি সদস্যদের বিতরণের জন্য ৪০টি ভিজিএফ চালের কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়, তবে অনেকে তা বিক্রি করে দেয়। একারনে ২০২৫ সালের জুন মাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ চাল শতভাগ লটারির মাধ্যমে বিতরণ করা হয় এতে অনেক ইউপি সদস্য ক্ষুদ্ধ হয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভিজিএফ চাল লটারির মাধ্যমে ৯টি ওয়ার্ডে ৯ জন পুরুষ সদস্য দায়িত্ব পান, যা তিনজন মহিলা সদস্যকে ক্ষুব্ধ করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিষদের সার্বিক সেবা মান উন্নত হলেও অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং কিছু সদস্যের অস্থিরতার কারণে মাঝে মাঝে কার্যক্রমে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। তবে প্রশাসকের উদ্যোগে পরিষদে পরিষ্কার, স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সাধারণ জনগণের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা বয়ে এনেছে। ইউনিয়ন পরিষদের সালিসি প্রক্রিয়া সচ্ছ ভাবে কাজ করতে চাইলে কয়েকজন ইউপি সদস্য সে-সব ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে অর্থের বিনিময়ে বাঁধা প্রদান করে। প্রশাসক এ-সব ক্ষেত্রে সচ্ছভাবে কাজ করায় বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো: আলমগীর হোসেন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি লক্ষ্য করেছি, স্থানীয় জনগণ যেন সব ধরনের সেবা সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে পেতে পারে। সীমিত বাজেট সত্ত্বেও আমরা পরিষদের অবকাঠামো উন্নয়ন, অফিস সজ্জা, পানির ট্যাংকি, লাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ, জন্ম নিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা কার্যকর করেছি। সরকারি খাস জমি দখল রোধ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার জন্য অবস্থান নিশ্চিতকরণ, ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক চলাচলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আমি সর্বদা সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই এবং কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করি না। বাজেট ও ট্যাক্স টাকা সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। ইউনিয়নের সকল প্রকল্প, লটারি বা সেবা বিতরণে জনগণ যেন সুবিধা পায়, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য। অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বাধার মোকাবিলায় আমরা স্বচ্ছতা বজায় রেখেই পরিষদ পরিচালনা করছি। সকল সদস্যের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে গোড়গ্রামকে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও উন্নত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026