
Sports Desk: ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিরোধিতার জের ধরে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসে’ (ডব্লিউসিএল) পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দাবি তোলেন সাবেক কয়েকজন ভারতীয় তারকা। তাদের আপত্তির মুখে ডব্লিউসিএল কর্তৃপক্ষ ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা দেয়। সেই ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনায় দু-দেশের ক্রিকেট প্রেমিরা। এ ঘটনায় কষ্টের সহিত সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিও।বার্মিংহামের এজবাস্টনে গত রোববার সাবেক ক্রিকেটারদের এই প্রতিযোগিতায় ভারত-পাকিস্তানের বহুল কাঙ্ক্ষিত ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। সাধারণত এমন ম্যাচে দুই দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের মাঝে মাঠের ক্রিকেটীয় লড়াই ও খুনসুটি বাড়তি রোমাঞ্চ জাগায়। কিন্তু এবার বদলে গেছে পরিস্থিতি।রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ক্রিকেট মাঠে টেনে আনায় ক্ষুব্ধ শহীদ আফ্রিদি। স্থানীয় সাংবাদিকদের আফ্রিদি জানান, ‘আমরা এখানে (ইংল্যান্ডে) ক্রিকেট খেলতে এসেছি, ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে এবং বন্ধুত্বপূর্ণভাবে আড্ডা দিতে এসেছি। আমি সবসময়ই বলে এসেছি ক্রিকেটকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিৎ। একজন খেলোয়াড় ভালো একজন দূতও, যে কখনও তার দেশের জন্য আশঙ্কা জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে না। কিন্তু কখনও কখনও একজন রাজনৈতিক পন্থী লোক অন্য সবার সবকিছু নষ্ট করে দেয়।’
এর আগে আফ্রিদির সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে তিক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ধাওয়ানের। এমনকি তিনিই প্রথম চিঠি দিয়ে লেজেন্ডস লিগে না খেলার কথা জানান। ফলে আফ্রিদির কথিত “একজন রাজনৈতিক পন্থী লোক” ধাওয়ানই হতে পারেন বলে ধারণা করছেন অনেকে। আফ্রিদির দাবি– ভারত চ্যাম্পিয়ন্স দল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্সের বিপক্ষে খেলতে ম্যাচের আগেরদিন অনুশীলনও করেছে। পরে নির্দিষ্ট একজনের (ধাওয়ান) কারণে সরে দাঁড়িয়েছে। তার মতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতেই না চায়, তাহলে এখানে আসার আগেই বলে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা এখানে এসেছে, এমনকি অনুশীলনও করেছে। কিন্তু হঠাৎ একদিনের মধ্যে সবকিছু বদলে গেল।
গত ১৮ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়নশিপ। যেখানে ভারতীয় দলের অধিনায়ক যুবরাজ সিং এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বে আছেন মোহাম্মদ হাফিজ। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বাতিল নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের খোঁচাও দিয়েছেন আফ্রিদি।তিনি বলেন, ‘আমি যদি জানতাম আমার কারণে ম্যাচ থেমে গেছে, তাহলে মাঠেও যেতাম না। কিন্তু ক্রিকেট চলতে দেওয়া উচিৎ। ক্রিকেটের সামনে শহীদ আফ্রিদি কিছুই না। ক্রিকেট বড় বিষয়, রাজনীতি টেনে আনা কিংবা ভারতীয় ক্রিকেটারের বলা মন্তব্য “পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলব না”, ক্রিকেট এসবেরও ওপরে। না খেলতে চাইলে বসে থাকুন তাহলেই তো হয়ে যেতো বলে মন্তব্য করেন শহীদ আফ্রিদি।