
শীতের ভোরে ঘুম থেকে উঠি,
বাইরে দেখি সাদা কুয়াশা,
মাটির ঘাসে শিশির ঝরে।
কিন্তু প্রবল শীতে মানুষের মনে জমে হতাশা।
কুয়াশার কুহেলিকায় চারপাশ ঢাকা,
রাস্তাঘাট নিস্তব্ধ,
নীরব আর ফাঁকা।
সাদা কুয়াশায় মনে হয়
সবকিছু রহস্যে ঘেরা,
অস্পষ্ট প্রকৃতির ছবি,
যেন চিত্রশিল্পীর তুলিতে আঁকা।
সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।
মা শীতের সকালে পাতিলে বসান ধান,
গরম জলে সিদ্ধ হয় চাল,
তবু সূর্যের রোদের আজ দেখা নেই,
মায়ের মনও তাই বিষণ্ন।
কখনো তিনি বানান নানা পিঠা,
আমি তৃপ্তি ভরে খাই,
সে স্বাদ যেন অমৃত,
মধুর আর মিঠা।
ভোরে খেজুর গাছের মালিক
শীতের হাওয়ায় রস কাটতে যায়,
তবু তার মনের ভেতর
এক অজানা ভয় রয়।
শীতের ঠেলায় বিষধর সাপ থাকে,
গাছে বা রসের ভাঁড়ে,
অজান্তে দংশন ঘটাতে পারে
তারই শরীরে,
এক মুহূর্তের ফাঁদে।
কৃষক যায় ধান কাটতে মাঠে,
দিনমজুর শাক-সবজি তোলে
ফসলের মালিকের জমিতে।
জেলে জাল ফেলে মাছ ধরতে যায়
পুকুর, বাওড়, নদী আর সমুদ্রে।
গোয়ালা ঘুরে ঘুরে
খাঁটি দুধ আনে ঘরে,
মৌয়াল যায় মধু আনতে
গভীর জঙ্গল আর বনে।
হাড়কাঁপানো শীতেও
কারো যেন বিশ্রাম নেই,
কারণ
সবার পরিশ্রমে ফলানো খাদ্যশস্য
যাবে হাটে-বাজারে,
দেশ ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে।
শীতের সাদা কুয়াশায় শিক্ষার্থীরা
গায়ে শীতের পোশাক জড়িয়ে
স্কুল-কলেজে যায়।
চাকরিজীবীরা বাস-ট্রেনে
ছুটে যায় অফিস-আদালতে,
শ্রমিকরা যায় কলকারখানায়,
শ্রম সেবা দিতে।
শীতের কুয়াশায় মন থাকে ধোঁয়াশায় নিস্তেজ,
তবু প্রকৃতি হারায় না তার রূপ।
ভোরের মাঠে ওঠে সোনালি ধান,
হলুদ সর্ষে ফুলের গন্ধে
ভরে ওঠে বাতাস আর প্রাণ।
ফুলের বাগানে—
গোলাপ, জবা, জুঁই, গাঁধা,
শুক্লা সুমঙ্গল ফুল ফোটে,
হৃদয় আনন্দে পুলকিত হয়,
মন খুশিতে নেচে ওঠে।
ঘন কুয়াশায় সবকিছু অন্ধকার,
দূরের আলো ম্লান,
ছায়াগুলোও মলিন।
রাস্তায় হাঁটা,
গাড়িঘোড়া চলাচল—
সব যেন এক বিড়ম্বনা।
প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা,
দৃষ্টি ঝাপসা, অস্পষ্ট,
চোখে দৃশ্য ধরা বড়ই কঠিন।
হৃদয়েও অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে আসে,
শীতের কুয়াশার আবহে মনও হয়ে যায় মলিন।
তবু ফুলের ছোঁয়া
আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে
হৃদয় জেগে ওঠে—
প্রফুল্ল মেজাজে। 🌸🌸